১৯.৪.২১

APA Formulation & Implementation’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাথে বিএইচবিএফসি’র স্বাক্ষরিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি : ২০২০-২০২১ অনুযায়ী কর্পোরেশনের ১০ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে APA বিষয়ে জনপ্রতি ০৫(পাঁচ) ঘন্টা প্রশিক্ষণ প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে মোতাবেক এপিএ’র শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্ত ইতোমধ্যে ১৭৮ জন কর্মকর্তাকে ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ): ২০২০-২০২১’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক এপিএ-তে কিছু পরিবর্তন আনায় কর্পোরেশনের ১০ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের সকল কর্মকর্তাকে APA বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করার প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় ১৮-১৯ এপ্রিল, ২০২১ রোজ রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করা হয় ‘APA Formulation & Implementation’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স। কোর্সটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এপিএ টিম লিডার জনাব এ. বি. এম. রুহুল আজাদ Concept of Government Performance Management System এবং যুগ্ম সচিব ও এপিএ ফোকাল পয়েন্ট জনাব রুখসানা হাসিন APA Guidelines এর উপর প্রাঞ্জল ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। কোর্স অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্পোরেশনের মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. আফজাল করিম স্বাগত বক্তব্যে প্রদান করেন। 

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস), ই-গভর্ন্যান্স ও ইনোভেশন, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা ও তথ্য অধিকার ইত্যাদি আবশ্যিক কৌশলগত উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনার বিপরীতে ৩০ নম্বর এবং মন্ত্রণায়/বিভাগের কৌশলগত উদ্দেশ্যের বিপরীতে ৭০ নম্বর বিভাজন করে ২০২১-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) প্রণীত হয়েছে, যার সফল বাস্তবায়নে গ্রাহক সেবা সন্তুষ্টি এবং শুদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বিধানে প্রতিষ্ঠান আরো এগিয়ে যাবে।


প্রশিক্ষণে কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক জনাব অরুন কুমার চৌধুরী, জনাব মো. আতিকুল ইসলাম, জনাব তোফায়েল আহমেদ, জনাব মো. জসীম উদ্দীন, জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক/বিভাগীয় প্রধান, জোনাল, রিজিওনাল ও শাখা ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মকর্তা সর্বমোট ৪১৮ জন উপস্থিত ছিলেন। উক্ত কোর্সের ১৯ এপ্রিল ২০২১ তারিখে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব ও এপিএ টিম মেম্বার জনাব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন ‘APA Monitoring and Evaluation’ বিষয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন।

জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবর্তন করে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বা এপিএ। বর্তমানে ৫৮টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ, ৩৪৪টি দপ্তর/সংস্থা এবং ১৬৫০০ এর অধিক সরকারী দপ্তর এপিএ স্বাক্ষর করেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা, দারিদ্র, শোষণমুক্ত একটি সুখী সমুদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন-'সরকারী কর্মচারী ভাইয়েরা আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর উর্ধ্বে স্থান দিতে হবে'।

তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে, একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ বিনির্মাণে, সরকারী কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি ও গতিশীলতা আনয়নে এবং সুশাসন সুসংহত করার লক্ষ্যে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার চালু করে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ও ফলভিত্তিক  এপিএ।

মূলত সরকারী কর্মসম্পাদন ব্যবস্থার আওতায় এপিএ একটি জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক সংস্কার। এপিএ মূলত একটি সরকারী দপ্তরের এক বছরের কর্মপরিকল্পনার দলিল। এই কর্মপরিকল্পনায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ-২০৩০ সহ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা প্রতিফলিত হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলায় কোন মানুষ গৃহহীন থাকবেনা। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের আলোকায়নে এবং সরকার ঘোষিত রূপকল্প ও এসডিজি বাস্তবায়নে আবাসন খাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিএইচবিএফসি। এরই  ধারাবাহিকতায়, এপিএ সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করা হয়।


২৭.৩.২১

গৃহঋণ বার্তার বিশেষ সংখ্যা- ১৭ মার্চ ২০২১

১৭ই মার্চ ২০২১ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে বিএইচবিএফসি কর্তৃক গৃহীত ১০দিনব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রকাশিত হলো  গৃহঋণ বার্তার বিশেষ সংখ্যা। সংখ্যাটিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা প্রবাহ; বিএইচবিএফসির পথচলা ও পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান; ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়ির সাথে বিএইচবিএফসির আত্মিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক অনন্যতা এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিএইচবিএফসির গৃহীত কর্মযজ্ঞের নানা বিষয় স্বপ্লপরিসরে তুলে ধরা ধরা হয়েছে। 

সংখ্যাটি অনলাইনে নিম্নোক্ত লিংকের মাধ্যমে ডাউনলোড করা ও পড়া যাবে।

গৃহঋণ বার্তার বিশেষ সংখ্যা- ১৭ মার্চ ২০২১



১১.৩.২১

বিএইচবিএফসি'র নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন জনাব মোঃ আফজাল করিম


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে মোঃ আফজাল করিম ০১.০৩.২০২১ তারিখে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)- কাজে যোগদান করেছেন বিএইচবিএফসি- যোগদানের পূর্বে তিনি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন তিনি ইতোপূর্বে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক- উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মহাব্যবস্থাপক পদে বিভিন্ন বিভাগ দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সততা দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি ১৯৯৫ সনে বিএইচবিএফসিতে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পদে চাকুরিতে যোগদান করেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে উপ-মহাব্যবস্থাপক হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বসহ মহাব্যবস্থাপকের চলতি দায়িত্বও পালন করেন 

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনে যোগদানের পূর্বে তিনি সেনা কল্যান সংস্থা, Tea Co Ltd. (Incorporated in U.K.) এবং বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রায় বছর যথাক্রমে প্রজেক্ট ইনচার্জ, ব্যবস্থাপক এবং সহকারী ব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব পালন করেন

মোঃ আফজাল করিম বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (মেকানিক্যাল), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন-ইন্ড্রাষ্টিয়াল ম্যানেজমেন্ট (PGDIM) এবং এমবিএ (মেজর ইন ফাইনান্স এন্ড ব্যাংকিং) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি ব্যাংকিং কর্মকান্ডের উপর দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, সেমিনার ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন এবং সুদীর্ঘ ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন

১৮.২.২১

‘জিরো ইক্যুইটি আবাসন ঋণ’- মুজিববর্ষে জনগণের দোড়গোড়ায় বিএইচবিএফসি

অরুন কুমার চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অতি. দায়িত্ব), বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন
অরুন কুমার চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতি. দায়িত্ব), বিএইচবিএফসি


স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ প্রতিষ্ঠান নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বেঁচে থাকলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু হতেন শতবর্ষী; আবার ২০২১ সাল বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধশতক সুবর্ণজয়ন্তী বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার এই বহুমাত্রিক তাৎপর্যপূর্ণতায় ১৭ মার্চ ২০২০ হতে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ সময়কালকে মুজিববর্ষ  হিসেবে ঘোষণা করে এই প্রেক্ষাপটে মুজিববর্ষকে সামনে রেখে সরকারের সাথে আত্মীকৃত হয়ে বিএইচবিএফসিও গ্রহণ করে নানা পরিকল্পনা

১৯৫২ সাল হতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা সমাধানকল্পে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক/ঋণ সহায়তা প্রদান করে আসছে ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশবলে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠিত হয়ে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) নামে অভিহিত হয় তখন হতে যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হিসেবে গৃহায়ন খাতে একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণ সহায়তা প্রদান করে আসছে

রূপকল্প-২০২১ বর্ণিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত 'সবার জন্য আবাসন' কর্মসূচি এবং সমন্বিত টেকসই জনবসতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএইচবিএফসিও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধান, আবাদী জমি রক্ষা, সবুজ অর্থায়ন এবং গ্রামীণ পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামকে শহরে উন্নতীকরণে তার ঋণ কার্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়েছে বাড়ানো হয়েছে ঋণের সিলিং, কমানো হয়েছে ঋণের সুদের হার ফলশ্রুতিতে যেখানে ঢাকা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সিটিতে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ঋণ বিতরণের হার ছিল ৭৯% এবং দেশের অন্যান্য গ্রামীণ অঞ্চলে ২১%, সেখানে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঢাকা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সিটি বাদে দেশের অন্যান্য গ্রামীণ অঞ্চলে ৬৭% ঋণ বিতরণ করা হয়েছে


বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবার জন্য আবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “মুজিববর্ষের সম্ভাষণ - সবার জন্য আবাসন” এই শ্লোগান ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‌'সুখী সমৃদ্ধ-সোনার বাংলা' গড়ার প্রত্যয়ে সকল শ্রেণীর মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাড়ি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন প্রকার ঋণের প্রোডাক্ট চালু, ঋণ সেবা সহজীকরণসহ দেশের নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা সমাধান ও জীবনমান উন্নয়নকল্পে প্রবর্তন করে “জিরো ইক্যুইটি আবাসন ঋণ”। গ্রামীণ অবকাঠামোতে স্বাস্থ্যসম্মত, দূষণমুক্ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণসমূহ বিশেষত: সৌর বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও বৃক্ষশোভিত মডেলের বাড়ি তৈরিকে উদ্বুদ্ধ করে এই ঋণ প্রদান করা হয়।

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বিএইচবিএফসি কর্তৃক জিরো ইক্যুইটিতে বাড়ি নির্মাণে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধান, আবাদী জমি রক্ষা এবং গ্রামীণ পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামকে শহরে উন্নতীকরণে এই ঋণ কার্যকর প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়ি নির্মাণের জন্য “জিরো ইক্যুইটি আবাসন ঋণ” প্রোডাক্ট চালু করা হয়। বিএইচবিএফসি কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্দিষ্ট ডিজাইন অথবা গ্রাহকের নিজস্ব ডিজাইন মোতাবেক ৬০০-৯০০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট একতলা বাড়ি নির্মাণে কৃষক আবাসন ঋণ ও পল্লীমা ঋণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৭% ও ৮% সুদে সর্বোচ্চ ১৬.৫০ লক্ষ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে। এতে গ্রাহকের নিজস্ব বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। গ্রাহকের কমপক্ষে ৪ (চার) শতক নিষ্কন্টক জমি এবং ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধের ন্যূনতম সক্ষমতা থাকা সাপেক্ষে খুব সহজেই এই ঋণ পাওয়া যাবে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মানসম্মত ও দৃষ্টি-নন্দন আবাসন, পল্লী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নির্মাণ উপকরণ ব্যবসায় সম্প্রসারণ সর্বোপরি পল্লী অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন এবং শেকড়ের সন্ধানে পল্লী- বাস্তবায়নে এই ঋণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি এবং দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বিএইচবিএফসি’র প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী মুজিববর্ষে সরকার ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার সাথে বিএইচবিএফসি’কে সম্পৃক্ত করেছিলেন এই ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে। এই ঋণ প্রবর্তনে তিনি হাতে নিয়েছিলেন নানা উদ্যোগ। বিশেষত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, পরিপত্র জারী, দ্রুত নথি প্রক্রিয়াকরণে নানাবিধ নির্দেশনা, প্রস্তাবনা ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিয়েছিলেন কার্যকরী পদক্ষেপ। মুজিববর্ষে বিএইচবিএফসি’কে জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা প্রদানে বিস্তৃত করেছিলেন তিনি। আজ তিনি আর আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর এই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন বিএইচবিএফসি’র সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। 

লেখকঃ

অরুন কুমার চৌধুরী,

ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অতি. দায়িত্ব), 

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন।

৩.১১.২০

বিএইচবিএফসি'র ১৫তম বুনিয়াদী (অনলাইন) প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত।


বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনে সাম্প্রতিক সময়ে যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসার, আইন অফিসার, অফিসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মকর্তাগণের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্পোরেশন সম্পর্কিত কর্ম-পদ্ধতি অনুধাবন অনুশীলনের লক্ষ্যে ‍‌'বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ' প্রদানের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা প্রদান করে। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব সংক্রমণজনিত কারণে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার্থে অনলাইন প্লাটফর্ম (জুম ক্লাউড মিটিংস) ব্যবহার করে কর্মকর্তাগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান আশাব্যঞ্জক মর্মে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মৌখিক সম্মতি জ্ঞাপন করেন এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৯.০৫.২০২০ হতে ১৬.০৫.২০২০ পর্যন্ত (সাত) দিনব্যাপী একটি অনলাইন বুনিয়াদী কোর্স (পার্ট-) আয়োজন করা হয়। সরকারী সাধারণ ছুটির মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উক্ত কোর্সে ৪৪জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের পার্ট- আয়োজন করার ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা প্রদান করেন। যার ফলশ্রুতিতে গত ১৮.১০.২০২০ হতে ০২.১১.২০২০ তারিখ পর্যন্ত ০৯ কর্মদিবসব্যাপী কোর্সটির পার্ট-২ আয়োজন করা হয়। পার্ট-২ এ ৩৯জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। 

কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে (In House Training) শুদ্ধাচার কৌশল, প্রশাসন, হিসাবায়ন, পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন, এপিএ, সাইবার সিকিউরিটি, সরকারী কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেনট, অটোমেশন অব বিএইচবিএফসি, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ সুশাসন সহ বিভিন্ন বিষয় প্রশিক্ষণ কোর্স-মডিউলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এছাড়া Green Financing-প্রেক্ষিত আবাসন খাত, Good Governance, Sources of Pleasure in Services, Moments of Truth in Service Satisfaction ইত্যাদি আত্ম-সমীক্ষণ আত্ম প্রজ্ঞা এবং সচেতনতা নৈতিক প্রণোদনামূলক বিষয়ও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন Good Governance এর উপর দুটি সেশন পরিচালনা করেন।


প্রশিক্ষণ কোর্সটির উদ্বোধনী ও সমাপনী দুটি অধিবেশনেই কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী উপস্থিত ছিলেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুটি ক্লাস সেশন পরিচালনা করেন।


কোর্সটির ক্লাস লেকচার ডাউনলোড করার জন্য নিম্নোক্ত লিংকে ক্লিক করুনঃ

অনলাইন বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স

৯.৯.২০

গৃহঋণ বার্তা’ এপ্রিল-জুন, ২০২০ (৯ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) প্রকাশ


বিএইচবিএফসি ত্রৈমাসিক বুলেটিনগৃহঋণ বার্তাএপ্রিল-জুন, ২০২০ (৯ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে করোনা মহামারীর ভিতরেও কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে এই সংখ্যায় অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত এটি ২য় সংখ্যা

 সংখ্যাটি পড়তে নিম্নোক্ত লিংক - ভিজিট করুন

গৃহঋণ বার্তা’ এপ্রিল-জুন২০২০ (৯ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা)

২৪.১১.১৯

নতুন যোগদানকৃত অফিসারদের '১৪তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ' কোর্স।

২৪.১১.২০১৯ হতে ১২.১২.২০১৯ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ১৫ (পনের) কার্যদিবসব্যাপী কর্পোরেশনে নতুন যোগদানকৃত ৪৪জন অফিসারদের সমন্বয়ে  '১৪তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ' কোর্স শুরু হয়েছে। 

১৭.৯.১৯

নতুন যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসারদের '১৩তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ' কোর্স।

১৫.০৯.২০১৯ হতে ০৩.১০.২০১৯ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ১৫ (পনের) কার্যদিবসব্যাপী কর্পোরেশনে নতুন যোগদানকৃত ৪৩জন সিনিয়র অফিসারদের সমন্বয়ে  '১৩তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ' কোর্স শুরু হয়। 


vবাংলাদেশের গৃহায়ন অবস্থা, গৃহায়ন খাতে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের অবদান, দেশের আবাসন সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা প্রদান;
v বিএইচবিএফসি’র কার্যাবলী, ঋণনীতি, কর্মসূচী এবং নিয়মাচার সম্পর্কে ধারণা প্রদান;
v ঋণ প্রদানে প্রকৌশল ও আইন সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ;
v কর্পোরেশনের তহবিল ব্যবস্থাপনা ও হিসাব পদ্ধতি এবং ঋণ আদায় পদ্ধতি বিষয়ে জ্ঞানের উৎকর্ষতা সাধন;
v চাকুরীর সাধারণ নিয়মাবলী এবং দক্ষ কর্মকর্তা তৈরীতে দিক-নির্দেশনা প্রদান;
v বর্তমান ডিজিটাল ও প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বে চ্যালেঞ্জ  মোকাবেলার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের তৈরীকরণে প্রশিক্ষণ প্রদান;

v রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে ই-ফাইলিং, নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG), জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল এবং সুশাসন ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা প্রদান- ইত্যাদি নানাবিধ বিষয়াবলীর সমন্বয়ে কোর্সটি সাজান হয়েছে।

কোর্সটির ক্লাস সেশন ও লেকচারের ডাউনলোড লিংকঃ 

২২.১০.১৮

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহঋণ


৫শতাংশ সুদে সরকারী চাকুরীজীবীদের গৃহখাতে গৃহঋণ দিতে রাষ্ট্র মালিকাধীন চার বানিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের সাথে সমঝোতা স্মারক(এমওইউ) সই করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

গত ৩০ জুলাই অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে 'সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮' জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী বাজারে সুদের হার যা-ই থাকুক, চাকরিজীবীরা সুদ দেবেন ৫ শতাংশ। আর অতিরিক্ত সুদ ভর্তুকি হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত তারা আবেদন করতে পারবেন। চাকরির গ্রেড অনুযায়ী ঋণ দেওয়া হবে ২০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ সময় ২০ বছর। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য একক ঋণ, জমি ক্রয়সহ বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণ, জমিসহ তৈরি বাড়ি কেনার জন্য একক ঋণ এবং ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ এর আওতায় আসবে।

ব্যক্তিগত জমির ওপর বাড়ি তৈরি করতে চাইলে ঋণের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির মূল মালিকানার দলিল জমা দিতে হবে। মালিকানা পরম্পরার তথ্যও দিতে হবে। সরকারি প্লট বা সরকার থেকে ইজারা নেওয়া জমিতেও বাড়ি তৈরি করা যাবে। সে ক্ষেত্রে ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্লটের বরাদ্দপত্রের প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য দলিল জমা দিতে হবে। ডেভেলপারকে দিয়ে বাড়ি তৈরি করালে জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে নিবন্ধন করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাট নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশা ও ভারবহন সনদ জমা দিতে হবে। গৃহনির্মাণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তির ঋণের অর্থ পাওয়ার এক বছর পর এবং ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের টাকা পাওয়ার ছয় মাস পর মাসিক কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে।

সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণের নিয়মাবলীর জন্য কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটের নিম্ন ঠিকানায় ক্লিক করুনঃ