৯.১.১৮

Probash Jibon Episode এবং জনাব দেবাশীষ চক্রবর্তী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএইচবিএফসি)

আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থাঃ সমস্যা ও তা সমাধানের উপায়

ভূমিকাঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রাচ্যের অনুন্নত অর্থনৈতিক বলয়ের অন্তর্ভূক্ত। এ দেশের আর্থিক খাত খুব বেশি বড় এবং সমৃদ্ধ নয়। উন্নয়নশীল দেশসমূহের আদলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতও প্রতিনিয়ত উন্নয়ন অর্জনের সংগ্রামে ক্রিয়াশীল। সহজ কথায়, আমাদের আর্থিক খাত এখনো অনুন্নত ও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। খাতটির উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রয়াশ এবং প্রচেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। তবে, এখনও কাংখিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না। বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখনও অনেক অনুন্নত ও দুর্বল। আর্থিক খাতকে আরো অনেক শক্তিশালী করতে হবে। দেশের কাংখিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং তা টেকসই  করার  জন্য ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

 (চলবে)

২৭.১২.১৭

ভালো ছাত্র, ভালো কর্মী হওয়া সহজ কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া সহজ নয়

শেখ আমিনউদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যন
বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী, যারা দেশ ও এদেশের জাতির জনককে ভালবাসেন, তারা সবাই স্বপ্নের সোনার বাংলার সফল বাস্তবায়ন চান। এ দেশ আমাদের মা। এ দেশের প্রতিটি মানুষই সে মায়ের সন্তান। নিশ্চয়ই আমরা সবাই এ দেশ-এর জনগণকে ভালবাসি। এর অর্থ সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমাদের সকলেরই স্বপ্ন।

বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কিছু মানুষের অতি লোভ, নীতিহীনতা ও দুর্নীতি তাঁর মানসপটে দাগ কেটেছিল। আজও বাংলাদেশের সমাজ জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতির আভাস পাওয়া যায়। এসব দুর্নীতি নিরসন করার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

সরকারের ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শব্দগুচ্ছের আগে আরো কয়েকটি শব্দ আছে। তা হলোঃ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়। জাতীয় জীবনে এ প্রত্যয় বাস্তবায়নের জন্য সবার আগে আমাদের প্রত্যেককে সোনার মানুষ হতে হবে।

সোনর মানুষ হয়ে ওঠার উপায় নিয়ে মনিষীরা অনেক ভেবেছেন। যাঁর যাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী অনেক অনেক কথাই বলেছেন। মরমী সাধক ফকির লালন শাহ্ এর একটি অতি জনপ্রিয় গানের মধ্যে সোনার মানুষ হওয়ার উপায় সন্ধান হয়েছে এভাবে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি ... ’।

লালনের একথার মর্মার্থ তো এমনই যে, সমাজ-সংসার, দেশ এবং বিশ্ব-রাষ্ট্রের মানুষের প্রতি আমাদের প্রেম থাকতে হবে। মানুষের মতামত ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। মানবতার প্রতি ভালোবাসাই আমাদের সোনার মানুষ করে তুলবে। কিন্তু মানুষের প্রতি প্রেম-ভালোবাসা উদ্রেক করার উপায় কি?

সোনা মূল্যবান ধাতু। মিস ইউনিভার্স-এর অঙ্গে ব্যবহৃত সোনা আর একজন সাধারণ মানুষের অঙ্গুরীয়’র সোনা একই ধাতু। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো যে, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে মূল্যবান ধাতু সোনার মতো হতে অবিরাম তাগিদ প্রদান অব্যাহত আছে। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে এতো তাগিদ, এতো বিধি-ব্যবস্থা,  এতো শাস্তির ভয় আর ইহকাল-পরকালে অশেষ পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি-কোন কিছুর বিনিময়েই মানুষকে সোনার মতো মূল্যবান ধাতুতে পরিণত করা যাচ্ছে না। 

বর্তমান জামানার শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি কম্পিউটার। এর দুটি পার্টঃ হার্ডওয়্যার ও সফট্ওয়্যার। এ যন্ত্রটিতে যেমন সফট্ওয়্যার ইন্সটল দেয়া হবে, পারফর্মেন্স হবে সে অনুযায়ী। এবার মানুষকে কম্পিউটার গোছের কোন এক যন্ত্র ঠাওরে নেয়া যাক! এর অধিকাংশই হার্ডওয়্যার। মগজটা হার্ডডিস্ক। এখানে নীতি-নৈতিকতা, সততা ও নিষ্ঠাচার নামের কিছু বিশেষ অনুভূতিপ্রবণ সফট্ওয়্যার ইন্সটল করতে পারলেই হলো! ফলাফল সুনিশ্চিত- পরিশুদ্ধ ভালো মানুষ!

মানুসের মস্তিষ্কে নীতি-নৈতিকতা, সততা ও নিষ্ঠাচার-এর মন্ত্র ইন্সটল করতে হবে! ধারণা করা হলোঃ এতো সহজ কাজ; কোনও ব্যাপারই না। কিন্তু এটাই মস্ত ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। ইনস্টল করতে চাইলেই ইনস্টল হচ্ছেনা। লোভ-লালসা আর পাপাচার ভাইরাসের পেটে চলে যাচ্ছে, নয়তো হ্যাকিং হয়ে যাচ্ছে মস্তিষ্ক।

প্রকৃতপক্ষে, মানুষ যখন যড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তখন তার মনের মধ্যে একটি সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তাকে বলা হয় অন্তরের সৌন্দর্যের ফসল। এই সৌন্দর্যের যখন স্ফূরণ ঘটে, তার প্রতিচ্ছবি বাহ্যিকভাবে তার কাজকর্ম-মননে প্রতিফলিত হয়। তখন তারা নিজের স্বল্প প্রয়োজন ছাড়া তাদের যত সম্পদ এবং মন-মানসিকতা নিয়ে দেশ এবং জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করে, তখন তাদের সোনার মানুষ বলে।

ধরে নিই, আমাদের সকলের মস্তিষ্কে সুনীতির সফট্ওয়্যার ইন্সটল নিয়েছে। মহান রাব্বুল আল-আমিনের অপার করুণায় আমরা সবাই শুদ্ধ মানুষ। কিন্তু আপনার আমার শুদ্ধতাই শেষ কথা নয়। আমাদের পরিবার, নিজ কর্মস্থল, স্বীয় প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং দেশের সবাই কি শুদ্ধ? তাহলে এ দেশ কেন সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে না? আমাদের দেশ-মাতৃকার সন্তানদের ঘাটে ঘাটে নাকাল কেন হতে হয়? আমাদের সেবায় জনগণ কেন সন্তুষ্ট নয়?

সকল প্রশ্নের উত্তরই আমাদের জানা আছে। আমরা সকলকে সকলে সেভাবে না চিনলেও অন্তত: নিজেকে খুব ভালভাবে চিনি ও জানি। নিজেকে শুধরানোর অবকাশ যদি নাই থাকে, সমাজ-সংসার শুধরানোর দায় থেকে পালিয়ে বাঁচার অবকাশ নাই। নীতি-নৈতিকতা এবং সততা ও নিষ্ঠাচার প্রয়োগের স্থানগুলো কি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে, নাকি নাগালের বাইরে? যদি তা না হয়, তাহলে প্রকৃত সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ব্যক্তি জীবনে আমরা হয়তো ভালো সন্তান, ভালো আত্মীয়, ভালো প্রতিবেশি, ভালো সঙ্গী, ভালো পিতা বা মাতা। ছাত্রজীবনে হয়তো ভালো ছাত্রও ছিলাম; চাকরী জীবনে ভালো কর্মীও হয়তো হতে পেরেছি। এগুলো অবশ্যই ভালো অর্জন। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এরকম ভালো হওয়া যতটা সহজ, সার্বিক বিচারে ভালো একজন মানুষ হওয়া ততোটা সহজ নয়।

আমাদের প্রত্যেককে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভালো মানসিকতার গন্ডি ছাড়িয়ে একজন পরিপূর্ণ ভালো মানুষ হয়ে উঠতে হবে। নীতি-নৈতিকতা এবং সততা ও নিষ্ঠাচার পালন ও প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ী হতেই হবে।

২৪.১২.১৭

প্রথম বারের মত ‘রিহ্যাব ফেয়ার’-এ বিএইচবিএফসি


২১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এর আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী ‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০১৭’ এর শুভ উদ্বোধন করেন বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এমপি। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুন নবী চৌধুরী (শাওন), এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী, জনাব লিয়াকত আলী ভূইয়া, সহ-সভাপতি-১, রিহ্যাব। 


প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি তাদের বক্তব্যে আবাসন খাতকে গতিশীল করতে বিএইচবিএফসি’কে ৫ হাজার কোটি টাকা তহবিল সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া ঋণের সুদ হার হ্রাস, দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ প্রদান, রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর জন্যও তারা সুপারিশ করেন। বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন প্রথম বারের মত রিহ্যাব ফেয়ারে অন্যতম কো-স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। মেলা চলাকালীন বিএইচবিএফসি’র ‘‘ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ঋণ’’ আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদন ফি’র উপর ৫০% ছাড় প্রদান করা হয়। পছন্দের সেবা গ্রহণে বিএইচবিএফসি’র স্টল নম্বর-সিএস-২৪ ভিজিট করার জন্য সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ।
এবং জনসংযোগ ইউনিট।

১৯.১২.১৭

ব্যাংকিংয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

শেখ আমিনউদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যন
বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুল প্রচলিত বিষয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে এর প্রয়োগ বহুলাংশে অনুপস্থিত। নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকে কার্যসম্পাদনের নামই স্বচ্ছতা। এখানে প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি না হয় এ ধরনের কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রকাশযোগ্য তথ্যের ব্যাপারে কোনরূপ ছলচাতুরী কিংবা অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া সঠিক হবে না। অর্থাৎ অপ্রয়োজনে অনাবশ্যকভাবে গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়া যাবে না। আর জবাবদিহিতা ও  স্বচ্ছতা একটি অপরটির পরিপূরক। কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে যদি জবাবদিহিতার কথা মাথায় থাকে তাহলে জবাবদিহিতা আসতে বাধ্য এবং স্বচ্ছতা থাকলে জবাবদিহিতা ব্যক্তিজীবন থেকে সমাজজীবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করা সহজ। ব্যক্তি এবং পারিবারিক জীবনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকলে পারিবারিক দ্বন্দও বহুলাংশে হ্রাস পায়।

প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্যে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকা অত্যাবশ্যক। হিসাব বা A/C খোলা থেকে শুরু করে Financial Statements (FS) তৈরি পর্যন্ত সামগ্রিক বিষয়গুলোর সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সময় সময় ব্যাংকিং খাতে যে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয় তার মূলে রয়েছে নিয়মনীতি না মানা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব। তাছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লোভ থেকে এসবের উৎসাহ জোগায়। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, আপাত দৃষ্টিতে ভালো কোন কর্মচারী যিনি অফিস সময়ের পরও অফিসে বসে কাজ করেন এবং তাকে আমরা কর্মঠ ব্যক্তি হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিনলেও তার দ্বারা অনেক সময় অনিয়ম সংঘটনের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া যায়। এমনকি অনেক ধর্মভীরু শাখা বা অফিস প্রধান আপাত দৃষ্টিতে ধর্মীয় অনুশাসন সঠিকভাবে পালন করেন বলে মনে হয় এমন লোকের ক্ষেত্রেও লোভের কারণে ব্যাংকের প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করার নজিরও দেখতে পাওয়া যায়। ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত (Ensure) করার জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়ন্ত্রণকারী বা উপরস্থ কর্মকর্তাকে সঠিকভাবে অধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রমের তদারকি করা বাঞ্চনীয় এবং সেই তদারককারী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত জীবনে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্য-বিধিতে তার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রমাণ মেলে কি-না তা খতিয়ে দেখতে হবে। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে যারা আমাদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব বা Role Model ছিলেন তারা তাদেরে কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার যথেষ্ট প্রমাণ রেখেছেন। তাদের নির্দেশাবলী এবং পদাঙ্ক অনুসরণ করলে ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অনেকটাই সম্ভবপর হবে।

এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গেলে কর্মরত বা দায়িত্ব প্রাপ্তগণের চিন্তা-চেতনা, তার জ্ঞানের পরিধি এবং সক্ষমতা অনেক সময় তার কাজের স্বচ্ছতা আনতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজনবোধে কাজের স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট Colleague বা Superior Officer-এর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ ব্যাংকের প্রত্যেকটি কর্মের সঙ্গে অর্থ কিংবা অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

এক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতাবশত: কোন ভুল করলে তার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাংকের Internal Transaction ছাড়াও বৈদেশিক বাণিজ্য এবং Remittance এর ব্যাপারে স্বচ্ছতার বিশেষ দরকার।

এ জন্য জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে  শুদ্ধাচার অর্জনের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অডিট ও পরিদর্শন বিভাগ (Audit & Inspection) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আশা করেছিলাম, Audit & Inspection Division-এ সবচেয়ে জ্ঞানী, দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক পদায়ন বা Posting হওয়া দরকার। বলাবাহুল্য, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম বা বিভিন্ন প্রকার বা ধরনের কার্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণাসমৃদ্ধ এবং বহুমাত্রিক জ্ঞান (Multi Dimensional Knowledge), অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পন্ন জনবল/কর্মকর্তাকে নিরীক্ষা ও পরিদর্শন কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পদায়ন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক সার্বিক কার্যাদিতে তুলনামূলক কম সক্ষমতা সম্পন্ন জনবলকে Audit & Instruction Branch-G Posting দেয়া হয়। ফলশ্রুতিতে, এ বিভাগে এই ধরনের কাজে জড়িত হওয়া কিংবা দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যথাযথ মেধাসম্পন্ন কর্মকর্তাগণ প্রণোদনার ঘাটতি অনুভব করেন এবং এরূপ কাজে সাধারণত অনাগ্রহ বা বিতৃষ্ণাও প্রকাশ করে থাকেন।

ব্যাংকিং-এ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা না থাকলে ব্যাংকারদের মনোজগতে Autocratic Attitude Grow করে। তাই ব্যাংকের সর্বৈব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন করা অতীব প্রয়োজন। ব্যাংকারদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এই স্বচ্ছতা আনয়ন করা দরকার। তবে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োগ অনেকখানি নির্ভরশীল। সেহেতু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার।

এছাড়া সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রণোদনা না থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। সেজন্য সকল স্তরেই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সামগ্রিকভাবে এবং নির্বিশেষে ব্যক্তি বা Individual পর্যায়ে পুরস্কার প্রবর্তন করা জরুরী বা পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা থাকা অত্যাবশ্যক। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং স্বত:স্ফূর্তভাবে সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় কার্যসম্পাদনে ভূমিকা রাখার জন্য সম্পৃক্ত জনবলের মধ্যে Promotion, Posting, Prize, Crest, Award প্রবর্তন করা যায়।
সাম্প্রতিককালে ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু অনিয়মের যে খবর আসছে তার মূলে রয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি/অনুপস্থিতি। এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

১৪.১২.১৭

বিএইচবিএফসি’তে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স


বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ট্রেনিং সেন্টারে গত ২৯-১০-২০১৭ তারিখে অফিসার, সিনিয়র অফিসার ও ল’অফিসার পদে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের বুনিয়াদী কোর্স শুরু হয়।  ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী প্রধান অতিথি হিসেবে কোর্সের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. দৌলতুন্নাহার খানম, মহাব্যবস্থাপক, মহাবিভাগ-১। এ সময়ে মহাব্যবস্থাপক মোঃ আমিন উদ্দিন ও মোঃ জাহিদুল হকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

 ১৫ কর্মদিবস ব্যাপী এই কোর্সটি শেষ হয় ১৬.১১.২০১৭ তারিখে।কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ আমিনউদ্দিন আহমেদ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ আমিন উদ্দিন, মহাব্যবস্থাপক (মহাবিভাগ-৩)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ জাহিদুল হক, মহাব্যবস্থাপক (মহাবিভাগ-২)। এ সময় কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)’র এক ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা গত ১৯-২০ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতর, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জনাব শেখ আমিনউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠোনে সভাপতিত্ব করেন বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী। এসময় প্রতিষ্ঠানটির তিন মহাব্যবস্থাপক, বিভাগীয় প্রধান উপ-মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ, জোনাল ও রিজিওনাল অফিসসমূহের ব্যবস্থাপকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএইচবিএফসি’র এ ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভাটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১জানুয়ারি বিএইচবিএফসি-তে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশিষ্ট ব্যাংকার জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী। যোগদানের পর থেকেই তিনি কর্পোরেশনের সেবা ও ব্যবসায় কার্যক্রমে একের পর এক নতুন মাত্রা যোগ করেন। এরমধ্যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একশ’দিনের বিশেষ কর্মসূচী উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রচলিত গতানুগতিক প্রোডাক্টসমূহ পুনর্গঠন, নতুন প্রোডাক্ট চালুকরণ, ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং বৃদ্ধি,  সুদের হার হ্রাসকরণ, আইডিবি প্রকল্পের আওতায় মফস্বল ও পেরি-আরবান এলাকায় ঋণ সম্প্রসারণের উদ্যোগ এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগ্রহ-ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো বিষয়ে সকলকে সম্যক ধারনা প্রদানের প্রয়োজন বিবেচনায় এ পর্যালোচনা সভা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এ ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভার প্রথম দিকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের ব্যবসায়িক সাফল্য-ব্যর্থতা এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও করণীয় বিষয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়।

২য় দিনে ঋণের নতুন প্রোডাক্ট, এতদসংক্রান্ত ঋণ নীতিমালা, ঋণের বাজার, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে সরকারের সাথে প্রতিষ্ঠানের এবং বিএইচবিএফসি সদর দফতরের সাথে মাঠ-আফিস সমূহের সম্পাদিত বার্ষিক কর্ম-সম্পাদন চুক্তির লক্ষ্য অর্জন, জাতীয় শুদ্ধাচার নীতি-মালা এবং নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন ও সেবা সহজীকরণ বিষয়েও প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

পর্যালোচনা সভায় প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সহযোগী আলোচক হিসেবে ৩ মহাব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় পরিস্থিতির মূল্যায়ন তুলে আনেন।

সেবা সহজিকরণঃ সম্প্রতি চালু হলো ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি

বিএইচবিএফসি’র ঋণগ্রহীতাদেও জন্য সম্প্রতি চালু হলো যাচ্ছে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি। এ পদ্ধতির মধ্যদিয়ে গ্রহীতাদের ঋণের মাসিক কিস্তির টাকা জমাকরণে প্রচলিত ভোগান্তির অবসান হবে। Direct Debit Collection পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রহীতার নিজস্ব ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে কিস্তির সমপরিমান অর্থ চলে আসবে তার গৃহঋণ হিসাব এ্যাকাউন্টে!

বর্তমান প্রচলিত ব্যবস্থায় ঋণ গ্রহীতাকে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট জমা বই-এর মাধ্যমে কিস্তির টাকা জমা দিতে হয়। এতে গ্রহীতার  ব্যাংকে যাতায়াত(visit) সময়(time)  ও অর্থ খরচ(cost)  হয়। বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়মিত মাসিক কিস্তির টাকা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হবে। দেশের ৫৭টি সিডিউলড্ ব্যাংকের ৯০০০-এরও বেশি শাখার সাথে কর্পোরেশনের এ লিংক স্থাপিত হতে যাচ্ছে শীঘ্রই। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত এ পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক (SCB)-এর সহযোগীতায় পরিচালিত হবে। গ্রহীতা একবার এতদসংক্রান্ত Electronic Fund Transfer Form পূরণ করে দিলে কোনও প্রকার ব্যয়/চার্জ ছাড়াই তার এ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিমাসে অর্থ সংগৃহীত হবে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি)’র সাথে একাধিক সভা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এবিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

০৯ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর মধ্যে 'Digital Cash Management Solution' বিষয়ক এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিএইচবিএফসি’র পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর পক্ষে সিইও নাসের এজাজ বিজয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ আমিনউদ্দিন আহমেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অব ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউট মুহিত রহমান, কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক ড. দৌলতুন্নাহার খানম, মোঃ আমিন উদ্দিন ও মোঃ জাহিদুল হকসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিএইচবিএফসি এর ঋণ গ্রহিতাবৃন্দ Bangladesh Electronic Fund Transfer Network (BEFTN) এর মাধ্যমে নিজেদের ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি ঋণের কিস্তি জমা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিএইচবিএফসি প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক গ্রাহক সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে। এই সুবিধা গ্রহণ করতে ঋণ গ্রহীতাকে ৯৫৬১৩৮০, ০১৫৫০০৪৩৩০৫ ও ০১৫৫০০৪৩৩০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।    

বিএইচবিএফসি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেবাশীষ চক্রবর্তী এর Ekushe Business-এ সাক্ষাৎকার

গত ২৫.০৭.২০১৭ তারিখে  বিএইচবিএফসি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক  Ekushe Business-এ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।
তাঁর এ সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষিত হয়েছে বিএইচবিএফসি'র নানা আঙ্গিকতা, উত্তরণের দিক-নির্দেশনা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা।


নতুন নেতৃত্ব, নতুন দিন : গৃহনির্মাণে নানা ঋণ

সাম্প্রতিক সময়ে বিএইচবিএফসিতে নতুন নীতিমালার আলোকে প্রবর্তিত হয়েছে আকর্ষণীয় নামে ৫ প্রকারের নতুন গৃহঋণ ব্যবস্থা। পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী এ পরিবর্তন ইতোমধ্যে সকল মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত জানুয়ারি মাসে কর্পোরেশনে যোগদানকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী এসব ঋণ-প্রোডাক্ট প্রচলনের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক। একটি বিশেষায়িত সরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিএইচবিএফসি। এধরনের প্রতিষ্ঠানে এত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এতো ব্যাপক পরিবর্তন সচরাচর ঘটতে দেখা যায় না। ছয় দশকেরও বেশি বয়সী প্রতিষ্ঠানটির পুরানো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে সময় লেগেছে মাত্র ছয় মাস। যুগোপযোগিতা অর্জনে বিএইচবিএফসি’র এ সাফল্য যুগান্তরকারী  এক ঘটনা।

দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী
 ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএইচবিএফসি

জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী’র  দায়িত্ব গ্রহণের বয়স তখন মাত্র ১৫ কর্মদিবস। এরই মধ্যে তিনি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করেন। গত ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল এ কর্মসূচী শেষ হয়। ঋণ মঞ্জুরী, বিতরণ, আদায়, মামলা নিষ্পত্তিসহ দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে বিশেষ এক গতি তরান্বিত করে এ কর্মসূচী। এ কর্মসূচীকে সফল করতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেই ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন মাঠ-অফিস। অন্যান্য উর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দেরাও মাঠ-পর্যায়ের অফিসসমূহ ঘুরে নতুন এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং নিজের সামর্থকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয় সাফল্যমন্ডিত হয়।

মাঠ-পর্যায়ে চলছিল একশ দিনের কর্মসূচীর নতুন উদ্দীপনা আর সদর দফতরে চলছিল দিন বদলের মহাকর্মযজ্ঞ। এসময় কর্পোরেশনে প্রথমবারের মতো আইটেমভিত্তিক ঋণপ্রদান নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলে। অধিকাংশ অকার্যকর পুরানো ৭ আইটেমের ঋণ বদলে বাস্তব উপযোগিতাসম্পন্ন: নগরবন্ধু, পল্লীমা, প্রবাসবন্ধু, আবাসন উন্নয়ন ও আবাসন মেরামত ঋণ শীর্ষক নতুন নতুন সেবা-পণ্য(প্রোডাক্ট) চালু করা হয়। এসব প্রোডাক্ট-এ ঋণ প্রদানের বিধান সম্বলিত মোট ৬টি সার্কুলার জারী করা হয় গত ৬জুন তারিখে।

ইতোপূর্বে কর্পোরেশনের ঋণের সুদের হার সর্বশেষ পরিবর্তন হয়েছিল ১জুলাই ২০০৬ সালে। সেমতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্টো. এলাকায় ১২ শতাংশ এবং এদুটি এলাকার বাইরে সুদের হার ছিল বার্ষিক ১০ শতাংশ। জনাব দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে কর্পোরেশনের ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ৯.৫ এবং ১০ থেকে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ লক্ষ টাকা-কে অপর্যাপ্ত এবং সময়-অনুপযোগী বিবেচনায় তা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়। ঋণ-সীমা ঠিক দ্বিগুণ অর্থাৎ এক কোটি টাকায় উন্নীত করার মধ্যদিয়ে তার এ উদ্যোগটিও সাফল্যমন্ডিত হয়।
ঋণ বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এখন তা সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। পোঁছে দেয়া হয়েছে পল্লী এলাকা পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটির এ ঋণ পুনর্গঠন ব্যবস্থা প্রবর্তনের সময় আবাদি জমি রক্ষা, কমিউনিটি আবাসন, বর্তমান সময়ের অর্থ, নির্মাণসামগ্রী ও শ্রম বাজার বিবেচনা করা হয়। বিবেচনা করা হয়েছে পল্লী এবং প্রবাসী নাগরিকের চাহিদার কথাও।

বর্তমানে প্রচলিত ঋণ-প্রোডাক্টসমূহের উপর আইটেম-ভিত্তিক  সংক্ষিপ্ত আলোচনাঃ
⌸ নগরবন্ধুঃ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্টো.এলাকা এবং এদুটি এলাকার বাইরে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলাসদর এলাকায় প্রদেয় এঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ  কোটি টাকা। সুদের হার সাড়ে আট থেকে সাড়ে নয় শতাংশ। গ্রুপভিত্তিতে নির্মাণাধীন স্থাপনায় দেয়া যাবে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা। এলাকাভেদে ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য নেয়া যাবে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা। সুদের হার সর্বত্রই সমান; শতকরা বার্ষিক ১০ টাকা।
⌸ প্রবাসবন্ধুঃ দেশের অভ্যন্তরে সকল নাগরিক সুবিধা সম্বলিত বাড়ি নির্মান উপযোগী যে কোনও জমি এ ঋণে নেয়া যাবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইটালী, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকগণ এ ঋণ নিতে পারবেন। অযৌথ বা একক গৃহ নির্মানে এলাকা ভেদে সুদের হার হবে ৮.৫০ থেকে ৯.৫০ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঋণ পাওয়া যাবে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি  টাকা। যৌথ বা গ্রুপভিত্তিক গৃহ নির্মানে সিলিং ৪০ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা। সুদের হার একই। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য এলাকাভেদে প্রদেয় ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং ৪০ লক্ষ টাকা থেকে ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে পেরি-আরবান, উপজেলা সদর ও গ্রোথ-সেন্টার এলাকায় সুদের হার ৯ শতাংশ এবং এসব এলাকার বাইরে ১০ শতাংশ।

⌸ পল্লীমাঃ দেশের সকল পেরি-আরবান এলাকা, উপজেলা সদর এবং গ্রোথ সেন্টার বা বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে এ ঋণ দেয়া হচ্ছে। ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী এ ঋণ হতে পারে ৩ রকমের। অযৌথ বা একক বাড়ি নির্মাণের জন্য ৮.৫% সুদে এ ঋণ হতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এসব এলাকায় যৌথ উদ্যোগে গ্রুপঋণ নেয়া হলে ৮.৫% সুদে প্রতি গ্রাহক পেতে পারেন সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি এসব এলাকার বার্ষিক ৯ শতাংশ হার সুদে ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য পেতে পারেন সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা।

⌸ আবাসন উন্নয়ন ঋণঃ একক মালিকানাধীন গৃহ-স্থাপনার বর্ধিতাংশ নির্মানে এ ঋণ পাওয়া যাবে। পেরি-আরবান, উপজেলা সদর এবং গ্রোথ-সেন্টার এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্টো. এলাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা সদরে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্টো. এলাকায় এ ঋণের সর্বোচ্চ পরিমান ১ কোটি টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্টো. এলাকায় সুদের হার বার্ষিক শতকরা সাড়ে নয় টাকা। এদুটি মেট্টো.এলাকার বাইরে সুদের হার সাড়ে আট শতাংশ।

⌸ আবাসন মেরামত ঋণঃ  ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্টো. এলাকা এবং দেশের সকল বিভাগীয় ও জেলা সদর এলাকায় গৃহ-স্থাপনা সংস্কার ও মেরামতের জন্য এঋণ নেয়া যাবে। এলাকাভেদে এবাবদ সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার ঋণ নেয়া যাবে। বার্ষিক সুদের হার সাড়ে আট থেকে সাড়ে নয় শতাংশ।